রাজধানীর মিরপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। এ ঘটনায় স্বামী ও নিহতের পরিবারের বিপরীতমুখী বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা?
নিহত আঁখি আক্তার মীম (২৪/২৮) চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা। ২০২১ সালে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।
স্বামী আব্দুর রহিম জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে জানতে পারেন, তার স্ত্রী একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং তা পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।
ঘটনার দিন তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাইরে যান। পরে বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পান, তার স্ত্রী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন।
পরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে মিরপুর-১ এর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ স্বামী। তার দাবি, তিনি ও তার সন্তান বাসায় না থাকার সুযোগে কেউ তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজিয়ে রাখতে পারে।
অন্যদিকে নিহতের পরিবার সরাসরি এটিকে হত্যা বলে অভিযোগ করেছে। নিহতের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার মেয়েকে আগে থেকেই নির্যাতন করা হতো। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।
স্বামী আব্দুর রহিম অবশ্য দাবি করেছেন, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ও ঋণের বোঝা থেকেই তার স্ত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শাহরাস্তি ও মিরপুর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।














