বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক জিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের দলকে সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখা। বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে সুসংগঠিত বিভিন্ন গোষ্ঠী, যার মধ্যে জামায়াত-শিবির ঘরানার শক্তিও রয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই-সম্পর্কিত আন্দোলনের বিভিন্ন গ্রুপও রাজনৈতিক মাঠে প্রভাব বিস্তার করছে।
দেশের একটি বড় অংশ ভারতবিরোধী ও শাহবাগপন্থী রাজনীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিও জনমনে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও শূন্য সহনশীলতা। ফলে রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন চরম পর্যায়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে যে কেউ সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিলে তাকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সরকারের সময়ে তৃণমূল পর্যায়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা সহায়তায় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ পরিচালনা করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ ছাত্ররাজনীতি ও তরুণ প্রজন্ম এখন অনেক বেশি সচেতন ও সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক জিয়ার সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো তিনি কতটা সঠিকভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারেন এবং কোন ধরনের পরামর্শকে গুরুত্ব দেন। একপক্ষের মতে, একপেশে রাজনৈতিক অবস্থান নিলে সামনে জটিলতা বাড়তে পারে।
বিএনপির জন্য আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো ক্ষমতার কাঠামো কেমন হবে। দল যদি একক আধিপত্যের পথে হাঁটে, তাহলে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ক্ষমতার একটি অংশ বিরোধী শক্তির জন্য উন্মুক্ত রেখে সমন্বয়মূলক কৌশল গ্রহণ করলে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে। এতে দলীয় তৃণমূলও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডানপন্থী ও প্রগতিশীল উভয় ধারার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় আবারও অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশের স্বার্থে অন্তত দুই বছর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন কৌশলী, পরিমিত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এখন দেখার বিষয়, নেতৃত্ব কতটা বাস্তববাদী ও সমন্বয়ভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারে।















