চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ফটিকখিরা গ্রামে সাফ কবলা দলিল ও খারিজ খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ম অনুযায়ী মাপজরিপ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন এক ভুক্তভোগী ভূমি মালিক। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৬০)।
অভিযোগকারী মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ফটিকখিরা (বেপারী বাড়ি) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর মালিকানাধীন ও দখলীয় খারিজ খতিয়ানভুক্ত ১০ শতক জমি বিক্রি করে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় আমিনের মাধ্যমে জমি মাপজরিপ শুরু করেন। কিন্তু এ সময় তার ছোট ভাই মোঃ আমির হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পেশিশক্তি প্রদর্শন করে মাপজরিপে বাধা দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন উপস্থিত হলে ক্রেতা বৈধ সাফ কবলা দলিল, খারিজ খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ দেখান। কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আপত্তি আছে—এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে কয়েকদিনের জন্য মাপজরিপ বন্ধ রাখার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, জমি বুঝিয়ে দিতে না পারলে ক্রেতা বাকি ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে তার এমবিবিএস পড়ুয়া মেয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আইনসম্মতভাবে দলিল ও খারিজ খতিয়ানভুক্ত জমি মাপজরিপ করে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ না পেলে আমি চরম আর্থিক ও পারিবারিক সংকটে পড়বো।”
উল্লেখ্য, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট জমিটি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানাধীন ৮৩ নং ফটিকখিরা মৌজায় অবস্থিত। জমিটি সাফ কবলা দলিল নং ৫৬৭৮ ও ৫৬৭৯ এবং খারিজ খতিয়ান নং ২০২৫-১০০০০১ ও ২০২৬-১০০০০১ অনুযায়ী রেকর্ডভুক্ত। জমির মোট পরিমাণ দুইটি বিএস দাগে (দাগ নং ৩৪ ও ৩৬) সর্বমোট ১০ শতক।
স্থানীয়দের মতে, মোঃ দেলোয়ার হোসেন আট ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে কখনো কৃষিকাজ, কখনো সামান্য চাকরি, আবার কখনো ব্যবসা করে পুরো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ফটিকখিরা এস.এ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সামান্য দপ্তরীর চাকরি করেও পরিবারের ভরণপোষণ ও ভাই-বোনদের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে, যখন তিনি নিজের মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, তখনই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ তার। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আপনজনদের বাধার কারণে জমি বুঝিয়ে দিতে না পারায় তিনি আজ চরম দুশ্চিন্তা ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রধান হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করে গেলেও শেষ বয়সে এসে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার দাবি, দ্রুত আইনি সহায়তা না পেলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, তার মেয়ের শিক্ষাজীবনও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার, যাতে দ্রুত আইনগত সহায়তার মাধ্যমে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হয়।
















