চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা সভায় আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতার প্রকাশ্য বক্তব্যকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে টামটা মাদ্রাসা মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের পথসভা চলাকালে এ ঘটনাটি ঘটে।
সভার মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী হুমায়ূন কবির। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগ রাজনীতির সক্রিয় ও পরিচিত একটি নাম।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের দাপটের সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের তিন বছরের কমিটিকে প্রায় ১৭ বছর ধরে দখলে রেখেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, তৎকালীন সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নাম ভাঙিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নানামুখী অনিয়মে জড়িয়ে পড়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করেন এবং সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ঢাকায় বাসাবাড়িও নির্মাণ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা যখন পুনর্গঠনের ধাপে অগ্রসর হচ্ছেন, তখন আওয়ামী লীগপন্থী এবং বিতর্কিত একজন নেতার বিএনপির মঞ্চে উঠে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মীদের জন্য এটি মানসিকভাবে আঘাতের সমান।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, দল দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এমন সময়ে আওয়ামী লীগের একজন বিতর্কিত ব্যক্তির হঠাৎ বিএনপির ছায়াতলে এসে বক্তৃতা দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই সংগঠনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ কর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
পথসভা শেষে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েও জানানো হয়েছে।
















